কোকাকোলা কোন দেশের কোম্পানি, কোকাকোলার ইতিহাস কি, কোকাকোলা কোম্পানির মালিক কোন ধর্মের এবং কোকাকোলা নিয়ে বাংলাদেশে কি এমন হয়েছে! জানতে হলে পড়ে ফেলুন আমাদের আজকের এই নিবন্ধনটি।
বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে কোকাকোলা ব্যান করা নিয়ে। কিন্তু এর সঠিক কারণ জানেন কি? যদি জানতে চান তাহলে আপনাকে বিস্তারিত ভাবে জানতে হবে জনপ্রিয় এই কোমল পানীয়র ইতিহাস সম্পর্কে।
কোকাকোলা কি?
কোকাকোলা একটি জনপ্রিয় অঙ্গার যুক্ত কোমর পানীয়। যেটাকে একপ্রকার কার্বনেটেড কমল পানীয় বলা হয়ে থাকে। এটি এমন একটি জনপ্রিয় সফট ড্রিংকস, যা কোকাকোলা কোম্পানি দ্বারা উৎপাদিত এবং বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া একটি সুপরিচিত পণ্য।
কোকাকোলার উপাদান সমূহ কি কি?
কোকাকোলা নামের জনপ্রিয় এই সফট ড্রিংকে রয়েছে একাধিক উপাদান। মূলত যে কয়েকটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে সুস্বাদু এই কোকাকোলা সেগুলো হলো–
কার্বনেটেড ওয়াটার
ফসফরিক এসিড বা ক্যারামেল
চিনি
প্রাকৃতিক ফ্লেভার বা স্বাদ
সোডিয়াম
চর্বি
ক্যালরি সহ বেশ কয়েকটি উপাদান।
কোকাকোলা কোন দেশের কোম্পানি?
কোকাকোলা মার্কিন বহুজাতিক কোমল পানীয় প্রস্তুত কারক কোম্পানির তৈরিকৃত একটি সফট ড্রিংকস। আর এই কোম্পানির হেডকোয়ার্টার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া প্রদেশের আটলান্টায়। জানা গিয়েছে ১৮৮৬ সালে ফার্মাসিস্ট জন স্টিথ পেম্বার্টন উদ্ভাবন করেন আজকের coca-cola, যা বর্তমান বিশ্বের পরিচিত একটি কোমল পানীয়, যাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে হচ্ছে বাংলাদেশে আলোচনা সমালোচনা। যাই হোক এখন আসুন সংক্ষেপে জেনে নেই কোকাকোলার ইতিহাস।
কোকাকোলার ইতিহাস
কোকাকোলা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কোমল পানীয় ব্র্যান্ডএর ইতিহাস শুরু হয় ১৮৮৬ সালে, যখন জন স্টিথ পেম্বারটন নামে একজন ফার্মাসিস্ট আটলান্টা, জর্জিয়াতে প্রথম কোকাকোলার সূত্র তৈরি করেন। পেম্বারটন মূলত এটি তৈরি করেছিলেন একটি মেডিসিন টনিক হিসাবে, যা কোকা পাতা এবং কোলা বাদামের নির্যাস থেকে তৈরি হয়েছিল।
কোকাকোলার ইতিহাসের প্রধান পয়েন্টগুলি:
শুরুর বছর (১৮৮৬): ড. জন স্টিথ পেম্বারটন আটলান্টাতে প্রথম কোকাকোলা বিক্রি শুরু করেন। মূলত এটি একটি ওষুধের টনিক হিসাবে বিক্রি হত।
নামকরণ: কোকাকোলা নামটি দেওয়া হয় পেম্বারটনের হিসাবরক্ষক ফ্রাঙ্ক রবিনসন দ্বারা। তিনি কোকা পাতা এবং কোলা বাদামের নাম থেকে এটি নামকরণ করেন এবং ব্র্যান্ডের লোগোটিও ডিজাইন করেন।
প্রথম বিক্রয়: ৮ মে, ১৮৮৬-তে জ্যাকব’স ফার্মাসি নামের একটি ড্রাগ স্টোরে প্রথম কোকাকোলা বিক্রি হয়। সেই সময়ে প্রতিটি গ্লাস ৫ সেন্টে বিক্রি হতো।
কোকাকোলা কোম্পানির মালিক কে?
কোকাকোলা কোম্পানির মালিকের নাম জানতে চান অনেকেই। সত্যি বলতে কোকাকোলা কোম্পানির মালিকানা ব্যাক্তিগত কোন ব্যক্তির হাতে নেই। এটি একটি পাবলিকলি ট্রেডেট কোম্পানি, যার শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হয়। তবে জনপ্রিয় এই কোম্পানির সিইও পদে দায়িত্ব পালন করছেন জেমস কুইন্সি (James Quincey) এবং কোম্পানির মূল সিদ্ধান্ত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস।
কোকাকোলা কোম্পানির মালিক কোন ধর্মের
দেখুন ইতোমধ্যে এটা আমরা উল্লেখ করেছি যে– কোকাকোলার নির্দিস্ট মালিক নেই, এটা একটা পাবলিক লিমিটেড মাল্টিন্যাশন্যাল কর্পোরেশন কোম্পানি। এইধরনের কোম্পানির প্রধান হচ্ছেন CEO (Chief Executive Officer) বা প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা যিনি Board of Directors বা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। কোম্পানির সম্পদ শেয়ারের মধ্যে বিভক্ত থাকে এবং শেয়ারহোল্ডাররা সকলেই কোম্পানির নির্দিস্ট অংশের মালিক।
কোকাকোলার বর্তমান CEO জেমস কুইন্সি একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে জন্মগ্রহন করেছিলেন। কোকাকোলার প্রতিষ্ঠাতা জন স্টিথ পেম্বের্টন একজন আমেরিকান এবং কোকাকোলা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা আসা গ্রিগাস ক্যান্ডলারও একজন আমেরিকান। তারা আমেরিকার জর্জিয়া প্রদেশের বাসিন্দা এবং এটা একটা আমেরিকান কোম্পানি।
কোকাকোলা কোম্পানির মালিক কোন দেশের
কোকাকোলা কোম্পানির মালিক অর্থাৎ সিইও হলেন ইংল্যান্ডের নাগরিক। মূলত স্বাদে প্রিয় জনপ্রিয় এই পানীয় 1892 সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং এটি আমেরিকান রুচির একটি বৈশ্বিক প্রতীক কোকা-কোলার জন্য সিরাপ এবং ঘনত্ব তৈরি এবং বিক্রিতে নিযুক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। যাইহোক এখন আসুন আলোচনার শেষ মুহূর্তে কোকাকোলা কোম্পানি বাংলাদেশ এবং কোকাকোলা বাংলাদেশ থেকে ব্যান করতে চাওয়ার বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য।
কোকাকোলা কোম্পানি বাংলাদেশ
কোকাকোলার যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর সর্ব প্রান্তে। কিন্তু কোকাকোলা বাংলাদেশের পথ চলা নিয়ে আপনি কি সেই গল্পটি জানেন! হয়তো জানেন আবার হয়তো বা না। বাংলাদেশের কোকাকোলা টিবিসিএল-এর মাধ্যমে ঢাকায় ১৯৬২ সালে প্রথম প্রবেশ করে। উত্তর জেলাটির নাম হচ্ছে চট্টগ্রাম। কোকাকোলা কোম্পানির পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করার পেছনে মাধ্যম ছিলেন কে রাহমান।
মূলত কোকাকোলা বাংলাদেশের যখন প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল তখন দেশের মানুষ নানা বৈচিত্র নয় স্বাদ গ্রহণ করছিল যে কারণে খুব সহজে এই কোমল পানীয় পছন্দ হওয়াটা একটা সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়। এছাড়াও কোকাকোলার স্বাদ অনেকটাই আলাদা ছিল অন্যান্য সফট ড্রিংস গুলোর থেকে। মূলত ১৯৬২ সালে প্রথম কোকাকোলা যাত্রা শুরু হলেও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি শুরু হয় ১৯৮২ সালে।
পরবর্তীতে কোকাকোলার বাজার বাড়তে থাকে এবং ১৯৯০ সালে নাগাদ বাংলাদেশের বাজারে এই সফট ড্রিঙ্কস 70 পার্সেন্ট দখল করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোমল পানীয় ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত হয়। আর ধীরে ধীরে পানীয় বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে এটি।
কোকাকোলা বাংলাদেশ থেকে ব্যান করা নিয়ে আজকের আপডেট
বাংলাদেশে বিনিয়োগ থেকে সরে গিয়েছে কোকাকোলা আইষেক, এমন বড় বড় বেশ কিছু হেডলাইন ইতিমধ্যে আপনাদের চোখে পড়েছে এমনকি বাংলাদেশ থেকে কোকাকোলা ব্যান করা হচ্ছে এমনটাও সমালোচনা হয়েছে বেশ কিছুদিন যাবৎ। মূলত বাংলার জনগণ কোকাকোলা কে নির্দিষ্ট কিছু কারণের জন্য স্বাদে পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ব্যান করে দিয়েছে ফলে বেশ লস হয়েছে তাদের কোম্পানির।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই পণ্যটি বা সফটওয়্যার বাজারে আনতো মূলত তাদের চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি বড় বিনিয়োগ স্থগিত রাখবে কোকাকোলা। আর এমনটাই বহাল করা হয়েছে।
সর্বশেষ মন্তব্য
তো পাঠক বন্ধুরা, এই ছিল কোকাকোলার ইতিহাস এবং কোকাকোলা কোন দেশের কোম্পানি এই সম্পর্কিত আমাদের আজকের আলোচনা। কোকাকোলা সফটওয়্যার ড্রিংকস আপনার কাছে কতটা প্রিয় ছিল এবং এটি কি আপনি এখনো পুরোপুরি ভাবে পরিত্যাগ করতে পেরেছেন? কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দেবেন। পরবর্তীতে আবারো কথা হবে নতুন টপিকের নতুন কোন বিষয়ে
। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।